১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জাতি গঠনে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিষয়ক প্রতিবেদন- পর্ব ০১

মফস্বলের শিক্ষক ফখরুল আইসিটিতে আলো ছড়াচ্ছেন

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস
আধুনিক শিক্ষা সম্প্রসারণে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শণ, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পৃথিবীকে হাতের মঠোয় তুলে দেয়াও একজন শিক্ষকের ভুমিকা অনস্বীকার্য। জনাব মোঃ ফখরুল ইসলাম জসীম তেমনি একজন শিক্ষক। তিনি একজন সৃষ্টিশীল শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক হাজারো কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। শ্রেণি কার্যক্রম হিসেবে পঠনে বিভিন্ন কলা-কৌশল, ইংরেজি ভাষা শিখনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রম ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পর্যবেক্ষণ প্রজেক্ট, কাব-স্কাউটিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যক্তি উদ্যোগে শেয়ারিং রুম ও হযরত ফাতেমা (রাঃ) নামাজ ঘর, সংবাদ পাঠ প্রশিক্ষণ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিদ্যালয়ে চমৎকার ফুলের বাগান, গান প্রশিক্ষণ, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যাবলী করে থাকেন। এর ফলাফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় আন্তর্জাতিক মান পাচ্ছেন। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম চোখে পড়ায় বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ মিনহাজ উদ্দিন বড় সাঙ্গিশর সপ্রাবি থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতি ক্রমে থানা কমপ্লেক্স শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেন। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রমে এলাকায় যথেষ্ঠ সাড়া পড়ে। প্রায় ভঙ্গুর বিদ্যালয়টি এখন উপজেলায় আলোচিত একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের ড্রেস কোড, নিয়মিত মা সমাবেশ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, জুমের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে কোলাবোরেশন, নান্দনিক বিদ্যালয়, ইংরেজি ভাষার চর্চা , কাবিং কার্যক্রম ইত্যাদি যে কারোই নজর কাড়বে। জনাব ফখরুল ২০০৬ সালের ২০ এপ্রিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ইতোপূর্বে যত গুলো বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রতিটি বিদ্যালয়েই তিনি তাঁর শিক্ষকতার সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছেন।

No description available.

তিনি ২০০৮ সালে লক্ষ্মীপুর পিটিআই থেকে ফার্স্টক্লাস পেয়ে সিইনএড পাস করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষক পোর্টাল ” শিক্ষক বাতায়ন” এ সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা নির্বাচিত হয়েছেন। একই সালে কুমিল্লা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে প্রথম “ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর” নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ও ২০২১ সালে মাইক্রোসফট এডুকেশন ইনোভেটর MIE Expart নির্বাচিত হন।

তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুলের সাথে নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষা, শিক্ষাদান পদ্ধতি, সংষ্কৃতি বিনিময় করে ব্রিটিশ কাউন্সিল ISA “International School Award) Full Award 2019 পদক লাভ করেছিলেন।
২০২১ সালে তিনি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম Wakelate থেকে অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। একই সালে তিনি বিদ্যালয়ে পাঠদানের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগের ভিডিয়ো a2i পরিচালিত শিক্ষক পোর্টাল শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করে “সেরা উদ্ভাবক” নির্বাচিত হন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ” ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজাইন ল্যাব” এ সারাদেশ থেকে তিনজন প্রাথমিক শিক্ষকের সাথে তিনিও অংশগ্রহণের সুযোগ পান। যে ওয়ার্কশপটিতে সচিব, যুগ্নসচিব, পরিচালক ও দুজন মন্ত্রী ( প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনাব মো: জাকির হোসেন ও আইসিটি মন্ত্রী জনাব জোনায়েদ আহমেদ পলক স্যারও উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী শিক্ষা পরিকল্পনা ব্লেন্ডেড লার্নিং ও ই-লার্নিং এর রিসোর্সফুল শিক্ষক হিসেবে a2i এর মুক্তপাঠে কন্টেন্ট ডেভেলপার হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শুধু নিজ বিদ্যালয়েই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। কুমিল্লায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষায় আইসিটির বাস্তবায়নে তিনি কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে জেলার ১৭ টি উপজেলায় ৭৪টি ভেন্যুতে জেলার অন্যান্য আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে দিন ব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন। তিনি নিজ উপজেলাতে “গরীবের কর্মশালা ” নামেও একটি ফ্রী কর্মশালা পরিচালনা করেছিলেন।

বন্ধের দিনগুলিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে ১৯টি আইসিটি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিলেন। যাতে বহু শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার ও কন্টেন্ট নির্মাণে যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন। তিনি করোনাকালীন সময়ে নিজেকে লুকিয়ে না রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়েছিলেন। উনি সরকারি পেইজ “ঘরে বসে শিখি”তেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেইজ “কুমিল্লা অনলাইন প্রাইমারি স্কুল ” পেজের একজন এডিটর ও নিয়মিত অনলাইন শিক্ষক। তাঁর শতাধিক অনলাইন ক্লাস সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নন্দিত হয়েছে। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি জাতীয় শিক্ষা পদক ২০২২ খ্রী এ উপজেলা পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

এই সুপার টীচার খ্যাত, বৃক্ষ প্রেমী শিক্ষক জনাব ফখরুলের সাথে আলাপ চারিতায় তিনি জানান, তিনি তাঁর উপজেলা, জেলা তথা দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, একদিন এই দেশের সকল শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনায় দক্ষ হয়ে নিজেকে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে পারবে। তিনি আরো জানান, ” আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। ছোট্ট বয়স থেকেই আমি শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবেসেছি। লেখাপড়া কালে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে আমার সম্পর্ক হয়েছে। তাদের শিক্ষা ও শিক্ষাদান পদ্ধতি আমি দেখেছি। তাই আমিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি কখনো শিক্ষকতার সুযোগ পাই তবে নিজের স্কুল ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও তাদেরকেও গ্লোবাল শিক্ষার্থী হিসেবেই গড়ে তুলবো। আমি আজো সেই স্বপ্নের পথেই হাটছি। ইনশাআল্লাহ আমি সফল হবোই।

জনাব ফখরুল জসীম নাঙ্গলকোট উপজেলার ২ নং পেরিয়া ইউনিয়নের চাঁন্দপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত জনাব ইউনুছ মিয়ার ছোট সন্তান। তাঁর বড় ভাই দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদরাসার বর্তমান প্রিন্সিপাল। তাঁর অন্য দুই ভাইও শিক্ষক। তিনি আরো এগিয়ে যাওয়ার জন্যে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

জাতি গঠনে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিষয়ক প্রতিবেদন- পর্ব ০১

মফস্বলের শিক্ষক ফখরুল আইসিটিতে আলো ছড়াচ্ছেন

আপডেট সময় : ১০:৩৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস
আধুনিক শিক্ষা সম্প্রসারণে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শণ, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পৃথিবীকে হাতের মঠোয় তুলে দেয়াও একজন শিক্ষকের ভুমিকা অনস্বীকার্য। জনাব মোঃ ফখরুল ইসলাম জসীম তেমনি একজন শিক্ষক। তিনি একজন সৃষ্টিশীল শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক হাজারো কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। শ্রেণি কার্যক্রম হিসেবে পঠনে বিভিন্ন কলা-কৌশল, ইংরেজি ভাষা শিখনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রম ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পর্যবেক্ষণ প্রজেক্ট, কাব-স্কাউটিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যক্তি উদ্যোগে শেয়ারিং রুম ও হযরত ফাতেমা (রাঃ) নামাজ ঘর, সংবাদ পাঠ প্রশিক্ষণ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিদ্যালয়ে চমৎকার ফুলের বাগান, গান প্রশিক্ষণ, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যাবলী করে থাকেন। এর ফলাফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় আন্তর্জাতিক মান পাচ্ছেন। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম চোখে পড়ায় বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ মিনহাজ উদ্দিন বড় সাঙ্গিশর সপ্রাবি থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতি ক্রমে থানা কমপ্লেক্স শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেন। তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রমে এলাকায় যথেষ্ঠ সাড়া পড়ে। প্রায় ভঙ্গুর বিদ্যালয়টি এখন উপজেলায় আলোচিত একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের ড্রেস কোড, নিয়মিত মা সমাবেশ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, জুমের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে কোলাবোরেশন, নান্দনিক বিদ্যালয়, ইংরেজি ভাষার চর্চা , কাবিং কার্যক্রম ইত্যাদি যে কারোই নজর কাড়বে। জনাব ফখরুল ২০০৬ সালের ২০ এপ্রিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ইতোপূর্বে যত গুলো বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রতিটি বিদ্যালয়েই তিনি তাঁর শিক্ষকতার সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছেন।

No description available.

তিনি ২০০৮ সালে লক্ষ্মীপুর পিটিআই থেকে ফার্স্টক্লাস পেয়ে সিইনএড পাস করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষক পোর্টাল ” শিক্ষক বাতায়ন” এ সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা নির্বাচিত হয়েছেন। একই সালে কুমিল্লা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে প্রথম “ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর” নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ও ২০২১ সালে মাইক্রোসফট এডুকেশন ইনোভেটর MIE Expart নির্বাচিত হন।

তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুলের সাথে নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষা, শিক্ষাদান পদ্ধতি, সংষ্কৃতি বিনিময় করে ব্রিটিশ কাউন্সিল ISA “International School Award) Full Award 2019 পদক লাভ করেছিলেন।
২০২১ সালে তিনি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম Wakelate থেকে অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। একই সালে তিনি বিদ্যালয়ে পাঠদানের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগের ভিডিয়ো a2i পরিচালিত শিক্ষক পোর্টাল শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করে “সেরা উদ্ভাবক” নির্বাচিত হন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ” ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজাইন ল্যাব” এ সারাদেশ থেকে তিনজন প্রাথমিক শিক্ষকের সাথে তিনিও অংশগ্রহণের সুযোগ পান। যে ওয়ার্কশপটিতে সচিব, যুগ্নসচিব, পরিচালক ও দুজন মন্ত্রী ( প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনাব মো: জাকির হোসেন ও আইসিটি মন্ত্রী জনাব জোনায়েদ আহমেদ পলক স্যারও উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী শিক্ষা পরিকল্পনা ব্লেন্ডেড লার্নিং ও ই-লার্নিং এর রিসোর্সফুল শিক্ষক হিসেবে a2i এর মুক্তপাঠে কন্টেন্ট ডেভেলপার হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শুধু নিজ বিদ্যালয়েই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। কুমিল্লায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষায় আইসিটির বাস্তবায়নে তিনি কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে জেলার ১৭ টি উপজেলায় ৭৪টি ভেন্যুতে জেলার অন্যান্য আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে দিন ব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন। তিনি নিজ উপজেলাতে “গরীবের কর্মশালা ” নামেও একটি ফ্রী কর্মশালা পরিচালনা করেছিলেন।

বন্ধের দিনগুলিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে ১৯টি আইসিটি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিলেন। যাতে বহু শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার ও কন্টেন্ট নির্মাণে যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন। তিনি করোনাকালীন সময়ে নিজেকে লুকিয়ে না রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়েছিলেন। উনি সরকারি পেইজ “ঘরে বসে শিখি”তেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেইজ “কুমিল্লা অনলাইন প্রাইমারি স্কুল ” পেজের একজন এডিটর ও নিয়মিত অনলাইন শিক্ষক। তাঁর শতাধিক অনলাইন ক্লাস সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নন্দিত হয়েছে। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি জাতীয় শিক্ষা পদক ২০২২ খ্রী এ উপজেলা পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

এই সুপার টীচার খ্যাত, বৃক্ষ প্রেমী শিক্ষক জনাব ফখরুলের সাথে আলাপ চারিতায় তিনি জানান, তিনি তাঁর উপজেলা, জেলা তথা দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, একদিন এই দেশের সকল শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনায় দক্ষ হয়ে নিজেকে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে পারবে। তিনি আরো জানান, ” আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। ছোট্ট বয়স থেকেই আমি শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবেসেছি। লেখাপড়া কালে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে আমার সম্পর্ক হয়েছে। তাদের শিক্ষা ও শিক্ষাদান পদ্ধতি আমি দেখেছি। তাই আমিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি কখনো শিক্ষকতার সুযোগ পাই তবে নিজের স্কুল ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও তাদেরকেও গ্লোবাল শিক্ষার্থী হিসেবেই গড়ে তুলবো। আমি আজো সেই স্বপ্নের পথেই হাটছি। ইনশাআল্লাহ আমি সফল হবোই।

জনাব ফখরুল জসীম নাঙ্গলকোট উপজেলার ২ নং পেরিয়া ইউনিয়নের চাঁন্দপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত জনাব ইউনুছ মিয়ার ছোট সন্তান। তাঁর বড় ভাই দৌলতগঞ্জ গাজিমুড়া কামিল মাদরাসার বর্তমান প্রিন্সিপাল। তাঁর অন্য দুই ভাইও শিক্ষক। তিনি আরো এগিয়ে যাওয়ার জন্যে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।