১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপির চলমান বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল দেওয়া কেন্দ্র করে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অনন্তত ১৩ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২-জুন) বিকেলে উপজেলার পেরিয়া ইউপির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ইউপি সদস্য বাবুল গাজি, ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ পরান, নাঈম, শরীফ, রাকিব ভূইয়া, আরিফ, রহমত উল্লাহ রাহাত, সোহরাব, শাহব উদ্দিন, আরাফাত, বেলায়েত হোসেন, আবু মুছা ও ফরহাদ।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে পেরিয়া ইউপিতে চলমান বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে একটি আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ পরান। অপরদিকে ইউপি ছাত্রলীগ নেতা রহমত উল্লাহ রাহাতের নেতৃত্ব দেশ ব্যাপী বিএনপিও জমায়েতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আরেটি মিছিল পেরিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। পরে উভয় গ্রুপের মিছিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আসলে সংঘর্ষ বাঁধে। দেশীয় আস্ত্রর স্বস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক, জয়েন্ট পাইপ নিয়ে দাওয়া পালটা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১৩ আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউপি ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ পরান বলেন, আমরা চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল এ ইউপির ছাত্রলীগের সভাপতি দায়িত্ব পাই। চলমা আমাদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করাকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন মজুমদারের ইন্দনে রাহাত, আবু মুছা, বেলায়েত হোসেন মিয়াজির নেতৃত্ব বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের মিছিলের উপর হামলা চালায় আমি সহ আমাদের ৫-৬ জন কর্মী আহত হয়।
ইউপি ছাত্রলীগ নেতা রহমত উল্লাহ রাহাত বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ শাহ পরান, নাঈম, শরীফ, রাকিব ভূইয়া, আরিফকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমি সহ আমাদের ৮-৯ জন কর্মী আহত হয়। তারা ইউপি সদস্য বাবুল গাজিকেও কুপিয়ে আহত করে। সে যুবলীগ নেতা তাকেও ছাড় দেনাই তারা। আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ ঘটনার সুস্থ বিচারের দাবি জানানই।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাবুল গাজি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল সরাসরি পিস্তল হাতে নিয়ে আমাদের গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি শোনার পরপর ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তারা যত অস্ত্র নিয়ে এসেছে আমার জীবনেও এতো অস্ত্র দেখি নাই। ছাত্রলীগ ছাত্রলীগকে মারার জন্য এত অস্ত্র নিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলমান বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে পেরিয়া ইউপিতে একটি আনন্দ মিছিল আয়োজন করা হয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। সেখাসে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। আনন্দ মিছিল শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে কিছু ছাত্রলীগ কর্মী আরেকটি মিছিল এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এখানে আনন্দ মিছিল অস্ত্র সশস্ত্র সজ্জিত করার কারণ কি আমি জানি না। অস্ত্র বিষয় সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ইউনিয়ন সভাপতি শাহ পরান ও জাকারিয়া ইসলাম পরাগকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগ কমিটি আমরাই অনুমোদন দিয়েছি। যা তারা মানতে রাজি নয়।

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট সময় : ০১:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপির চলমান বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল দেওয়া কেন্দ্র করে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অনন্তত ১৩ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২-জুন) বিকেলে উপজেলার পেরিয়া ইউপির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ইউপি সদস্য বাবুল গাজি, ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ পরান, নাঈম, শরীফ, রাকিব ভূইয়া, আরিফ, রহমত উল্লাহ রাহাত, সোহরাব, শাহব উদ্দিন, আরাফাত, বেলায়েত হোসেন, আবু মুছা ও ফরহাদ।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে পেরিয়া ইউপিতে চলমান বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে একটি আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ পরান। অপরদিকে ইউপি ছাত্রলীগ নেতা রহমত উল্লাহ রাহাতের নেতৃত্ব দেশ ব্যাপী বিএনপিও জমায়েতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আরেটি মিছিল পেরিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত হয়। পরে উভয় গ্রুপের মিছিল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আসলে সংঘর্ষ বাঁধে। দেশীয় আস্ত্রর স্বস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক, জয়েন্ট পাইপ নিয়ে দাওয়া পালটা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১৩ আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউপি ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ পরান বলেন, আমরা চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল এ ইউপির ছাত্রলীগের সভাপতি দায়িত্ব পাই। চলমা আমাদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করাকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন মজুমদারের ইন্দনে রাহাত, আবু মুছা, বেলায়েত হোসেন মিয়াজির নেতৃত্ব বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের মিছিলের উপর হামলা চালায় আমি সহ আমাদের ৫-৬ জন কর্মী আহত হয়।
ইউপি ছাত্রলীগ নেতা রহমত উল্লাহ রাহাত বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ শাহ পরান, নাঈম, শরীফ, রাকিব ভূইয়া, আরিফকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমি সহ আমাদের ৮-৯ জন কর্মী আহত হয়। তারা ইউপি সদস্য বাবুল গাজিকেও কুপিয়ে আহত করে। সে যুবলীগ নেতা তাকেও ছাড় দেনাই তারা। আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ ঘটনার সুস্থ বিচারের দাবি জানানই।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাবুল গাজি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল সরাসরি পিস্তল হাতে নিয়ে আমাদের গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি শোনার পরপর ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তারা যত অস্ত্র নিয়ে এসেছে আমার জীবনেও এতো অস্ত্র দেখি নাই। ছাত্রলীগ ছাত্রলীগকে মারার জন্য এত অস্ত্র নিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলমান বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে পেরিয়া ইউপিতে একটি আনন্দ মিছিল আয়োজন করা হয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। সেখাসে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। আনন্দ মিছিল শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে কিছু ছাত্রলীগ কর্মী আরেকটি মিছিল এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এখানে আনন্দ মিছিল অস্ত্র সশস্ত্র সজ্জিত করার কারণ কি আমি জানি না। অস্ত্র বিষয় সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ইউনিয়ন সভাপতি শাহ পরান ও জাকারিয়া ইসলাম পরাগকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগ কমিটি আমরাই অনুমোদন দিয়েছি। যা তারা মানতে রাজি নয়।