০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ রিনার ঘাতক স্বামীর ফাঁসির দাবীতে স্বজনদের মানববন্ধন

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ রিনা বেগম হত্যার প্রতিবাদে ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী এয়াকুবের ফাঁসির দাবীতে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় পানকরা হাফেজা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে স্থানীয় সকল শ্রেণী পেশার শত-শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নিহত রিনা পানকরা গ্রামের আবু তাহের সওদাগরের মেয়ে। ঘাতক স্বামী এয়াকুব পাশ্ববর্তী ঠোল্লাপাড়া গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে। গত ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবু তাহের বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা দায়ের করলে গত বুধবার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ স্বামী এয়াকুবকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পানকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাপতি বদিউল আলম রাজু, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম, সমাজ সেবক মজিবুল হক, সাহাব উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, তনু মিয়া, নিহত রিনার পিতা আবু তাহের সওদাগর, মা আকলিমা বেগম, ভাই মহিন উদ্দিন, রহিম উদ্দিন, পেয়ার আহম্মদ, বোন জাহেদা বেগম, মিনারা বেগম, ফুফু মনোয়ারা বেগম, চাচী আনোয়ারা বেগম।
মানববন্ধনে নিহতের বড় ভাই মহিন উদ্দিন বলেন, আমার বোন ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে অনেক কান্নাকাটি করে জানায় তার স্বামী এয়াকুব তাকে অনেক মারধর করেছে। এর ১০ মিনিট পরে স্বামী এয়াকুব ফোন করে জানায় আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না, তাকে যৌতুকের জন্য মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘাতক এয়াকুবের ফাঁসির দাবী করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, বিয়ের পর থেকে প্রায় সময় এয়াকুব রিনাকে মারধর করত। আমরা এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক করি। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবী জানাই।
উল্লেখ্য, গত চার বছর পূর্বে উপজেলার ঠোল্লাপাড়া গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে এয়াকুবের সঙ্গে পানকরা গ্রামের আবু তাহের সওদাগরের ছোট মেয়ে রিনা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয় এয়াকুবকে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আবারো যৌতুকের জন্য রিনা বেগমকে মারধর শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠক হয়। সর্বশেষ গত ১৫ দিন পূর্বে রিনার পরিবারের কাছে একটি মোবাইল সেট দাবী করে এয়াকুব। মোবাইল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এয়াকুব রিনাকে বেড়ধক মারপিট করলে রিনা তার পিতা আবু তাহেরের কাছে চট্টগ্রাম চলে যায়। গত রবিবার চট্টগ্রাম থেকে রিনা স্বামীর বাড়ি ঠোল্লাপাড়া গ্রামে আসলে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মারপিট করে। এর কিছুক্ষণ পরে সে বসত ঘরের সিলিংয়ের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচারণা চালায় স্বামী এয়াকুব।

 

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ রিনার ঘাতক স্বামীর ফাঁসির দাবীতে স্বজনদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ রিনা বেগম হত্যার প্রতিবাদে ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী এয়াকুবের ফাঁসির দাবীতে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় পানকরা হাফেজা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে স্থানীয় সকল শ্রেণী পেশার শত-শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নিহত রিনা পানকরা গ্রামের আবু তাহের সওদাগরের মেয়ে। ঘাতক স্বামী এয়াকুব পাশ্ববর্তী ঠোল্লাপাড়া গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে। গত ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবু তাহের বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা দায়ের করলে গত বুধবার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ স্বামী এয়াকুবকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পানকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাপতি বদিউল আলম রাজু, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম, সমাজ সেবক মজিবুল হক, সাহাব উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, তনু মিয়া, নিহত রিনার পিতা আবু তাহের সওদাগর, মা আকলিমা বেগম, ভাই মহিন উদ্দিন, রহিম উদ্দিন, পেয়ার আহম্মদ, বোন জাহেদা বেগম, মিনারা বেগম, ফুফু মনোয়ারা বেগম, চাচী আনোয়ারা বেগম।
মানববন্ধনে নিহতের বড় ভাই মহিন উদ্দিন বলেন, আমার বোন ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে অনেক কান্নাকাটি করে জানায় তার স্বামী এয়াকুব তাকে অনেক মারধর করেছে। এর ১০ মিনিট পরে স্বামী এয়াকুব ফোন করে জানায় আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না, তাকে যৌতুকের জন্য মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘাতক এয়াকুবের ফাঁসির দাবী করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, বিয়ের পর থেকে প্রায় সময় এয়াকুব রিনাকে মারধর করত। আমরা এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক করি। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবী জানাই।
উল্লেখ্য, গত চার বছর পূর্বে উপজেলার ঠোল্লাপাড়া গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে এয়াকুবের সঙ্গে পানকরা গ্রামের আবু তাহের সওদাগরের ছোট মেয়ে রিনা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয় এয়াকুবকে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আবারো যৌতুকের জন্য রিনা বেগমকে মারধর শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠক হয়। সর্বশেষ গত ১৫ দিন পূর্বে রিনার পরিবারের কাছে একটি মোবাইল সেট দাবী করে এয়াকুব। মোবাইল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এয়াকুব রিনাকে বেড়ধক মারপিট করলে রিনা তার পিতা আবু তাহেরের কাছে চট্টগ্রাম চলে যায়। গত রবিবার চট্টগ্রাম থেকে রিনা স্বামীর বাড়ি ঠোল্লাপাড়া গ্রামে আসলে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে মারপিট করে। এর কিছুক্ষণ পরে সে বসত ঘরের সিলিংয়ের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচারণা চালায় স্বামী এয়াকুব।