০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
প্রার্থীসহ বিএনপির শীর্ষ তিন নেতাই জেলে

কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির শীর্ষ নেতা আব্দুল গফুর ভূঁইয়া জেলে

আবদুল গফুর ভূঁইয়া, মনিরুল হক চৌধুরী, মোবাশ্বের আলম ভূইয়া

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির সাবেক সাংসদ ও নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাঁকে ধরে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীসহ শীর্ষ তিন নেতাই এখন জেলে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছালেহ আহম্মদ বলেন, ১২ ডিসেম্বর জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের গোহারুয়া গ্রামের প্রয়াত মনা মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেনকে পিস্তলসহ গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ মামলায় আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে ২ নম্বর আসামি করে পুলিশ। গতকাল এ মামলায় জামিন নেওয়ার জন্য হাইকোর্টে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে যান গফুর ভূঁইয়া। এরপর তিনি জোহরের নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছিলেন। তখন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল ও নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ তাঁর গতিরোধ করে। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গতকাল বলেন, নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ ও ডিবির সহযোগিতায় গফুর ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গফুর ভূঁইয়া এ আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে ঋণ খেলাপের কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঐক্যজোটের কমিটির সমন্বয়ক মনিরুল হক চৌধুরী। গত ২৪ অক্টোবর মনিরুল গ্রেপ্তার হন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিএনপির ছয়জন নেতা বলেন, গায়েবি ও পুরোনো মামলায় পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামি করে গ্রেপ্তার করছে। এরপর নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। এতে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকছে না। দলের শীর্ষ তিন নেতা জেলে থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

থানা-পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে আগুনে পুড়িয়ে আটজন যাত্রী হত্যা মামলায় গত ২৪ অক্টোবর আদালতে জামিনের আবেদন করেন মনিরুল হক চৌধুরী। আদালত তাঁর জামিন বাতিল করেন। এরপর থেকে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া নাঙ্গলকোট থানার আরও দুটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। বর্তমানে কারাগারে থেকেই তিনি নির্বাচন করছেন। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির জনসভা শেষে ফেরার পথে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় কারাগারে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, সরকার একতরফা নির্বাচন করার জন্য একে একে আসনভিত্তিক বড় নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে বিভিন্ন গায়েবি মামলা করে দলের প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা নেতাশূন্য করা হয়েছে। পুরো জেলায় নেতা-কর্মীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁরা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ চান।

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

প্রার্থীসহ বিএনপির শীর্ষ তিন নেতাই জেলে

কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির শীর্ষ নেতা আব্দুল গফুর ভূঁইয়া জেলে

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির সাবেক সাংসদ ও নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাঁকে ধরে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীসহ শীর্ষ তিন নেতাই এখন জেলে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছালেহ আহম্মদ বলেন, ১২ ডিসেম্বর জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের গোহারুয়া গ্রামের প্রয়াত মনা মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেনকে পিস্তলসহ গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ মামলায় আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে ২ নম্বর আসামি করে পুলিশ। গতকাল এ মামলায় জামিন নেওয়ার জন্য হাইকোর্টে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে যান গফুর ভূঁইয়া। এরপর তিনি জোহরের নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছিলেন। তখন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল ও নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ তাঁর গতিরোধ করে। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গতকাল বলেন, নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ ও ডিবির সহযোগিতায় গফুর ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গফুর ভূঁইয়া এ আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে ঋণ খেলাপের কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঐক্যজোটের কমিটির সমন্বয়ক মনিরুল হক চৌধুরী। গত ২৪ অক্টোবর মনিরুল গ্রেপ্তার হন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিএনপির ছয়জন নেতা বলেন, গায়েবি ও পুরোনো মামলায় পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামি করে গ্রেপ্তার করছে। এরপর নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। এতে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকছে না। দলের শীর্ষ তিন নেতা জেলে থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

থানা-পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে আগুনে পুড়িয়ে আটজন যাত্রী হত্যা মামলায় গত ২৪ অক্টোবর আদালতে জামিনের আবেদন করেন মনিরুল হক চৌধুরী। আদালত তাঁর জামিন বাতিল করেন। এরপর থেকে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া নাঙ্গলকোট থানার আরও দুটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। বর্তমানে কারাগারে থেকেই তিনি নির্বাচন করছেন। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির জনসভা শেষে ফেরার পথে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় কারাগারে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, সরকার একতরফা নির্বাচন করার জন্য একে একে আসনভিত্তিক বড় নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে বিভিন্ন গায়েবি মামলা করে দলের প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা নেতাশূন্য করা হয়েছে। পুরো জেলায় নেতা-কর্মীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁরা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ চান।