০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৪, ২৮ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
হত্যার চেষ্টায়

ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সুমনকে কুপিয়ে জখম

কুমিল্লায় ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার আবদুর রাজ্জাক (২৭) ওই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশুর বাড়িতে ভাঙচুর চালান রাজ্জাকের অনুসারীরা। এদিকে হামলার প্রতিবাদে কাল সোমবার নাঙ্গলকোটে আধা বেলা হরতাল ডেকেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

আবদুর রাজ্জাকের অনুসারীরা বিকেল তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনও অবরোধ করে রাখে। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনে আটকা পড়ে। নাঙ্গলকোট বাজারেও বিক্ষোভ মিছিল হয়। তখন আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রাজ্জাক নাঙ্গলকোট বাজারে একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ৯ থেকে ১০ জন মুখোশধারী তাঁকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতারা।

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, সভাপতি আবদুর রাজ্জাককে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশু। কাল নাঙ্গলকোটে আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন মিশু বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাকের লোকজন আমার ওপর হামলা করে। ঘটনার সময় আপনি সেখানে ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নে মিশু নিরুত্তর থাকেন।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, পৌর মেয়রের ভাতিজা মিশুর নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বলেন, ‘আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে সেখানকার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরোধ রয়েছে। ওই ঘটনায়, নাকি অন্য কোনো কারণে এ হামলা হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার বড় ভাই ও তাঁর ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। মিশু রাজনীতি করুক, সেটা আমি চাই না। মুখোশধারীরা হামলা করেছে। হামলাকারী যে-ই হোক তাঁর বিচার চাই।’

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

হত্যার চেষ্টায়

ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সুমনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৮

কুমিল্লায় ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার আবদুর রাজ্জাক (২৭) ওই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশুর বাড়িতে ভাঙচুর চালান রাজ্জাকের অনুসারীরা। এদিকে হামলার প্রতিবাদে কাল সোমবার নাঙ্গলকোটে আধা বেলা হরতাল ডেকেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

আবদুর রাজ্জাকের অনুসারীরা বিকেল তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনও অবরোধ করে রাখে। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনে আটকা পড়ে। নাঙ্গলকোট বাজারেও বিক্ষোভ মিছিল হয়। তখন আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রাজ্জাক নাঙ্গলকোট বাজারে একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ৯ থেকে ১০ জন মুখোশধারী তাঁকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতারা।

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, সভাপতি আবদুর রাজ্জাককে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশু। কাল নাঙ্গলকোটে আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন মিশু বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাকের লোকজন আমার ওপর হামলা করে। ঘটনার সময় আপনি সেখানে ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নে মিশু নিরুত্তর থাকেন।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, পৌর মেয়রের ভাতিজা মিশুর নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বলেন, ‘আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে সেখানকার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরোধ রয়েছে। ওই ঘটনায়, নাকি অন্য কোনো কারণে এ হামলা হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার বড় ভাই ও তাঁর ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। মিশু রাজনীতি করুক, সেটা আমি চাই না। মুখোশধারীরা হামলা করেছে। হামলাকারী যে-ই হোক তাঁর বিচার চাই।’