১২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়িক মালের যাকাত কিভাবে দিবেন

ব্যবসায়ী পণ্য বলতে বুঝায়: এমন যাবতীয় বস্তু যা দ্বারা মুনাফা অর্জন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। যেমন, জমি, জীব-জন্তু, খাবার, পানীয় ও গাড়ী ইত্যাদি সব ধরনের সম্পদ।
সুতরাং বছরান্তে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে তার চার দশমাংশ বা ৪০ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে অর্থাৎ ২.৫%। চাই সেটার মূল্যমান ক্রয়মূল্যের সমপরিমান হোক, অথবা কম হোক অথবা বেশি হোক।
মুদি দোকানদার, মেশিনারি দোকানদার বা খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রেতা ও এ জাতীয় ব্যবসায়ীদের কর্তব্য হলো, ছোট বড় সকল অংশের মূল্য নির্ধারণ করে নেবে, যাতে কোনো কিছু বাদ না পড়ে। পরিমাণ নির্ণয়ে যদি জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক বেশি দাম ধরে যাকাত আদায় করবে, যাতে সে সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বমুক্ত হতে পারে।
o মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু যথা খাবার, পানীয়, বিছানা, আসবাবপত্র, থাকার ঘর, বাহন, গাড়ী, পোশাকের (ব্যবহার্য সোনা-রূপা ছাড়া) ওপর যাকাত নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‘মুসলিমের দাস-দাসী, ঘোড়ার ওপর যাকাত নেই।’ (বুখারী: ১৪৬৪; মুসলিম: ৯৮২)
o অনুরূপভাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্য যেমন জমি-জমা, গাড়ী ইত্যাদির ওপর যাকাত আসবে না। তবে সেসব থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর বছর পূর্তির পর সেটা দ্বারা স্বয়ং নিসাব পূর্ণ হোক বা এ জাতীয় অন্য সম্পদের সাথে মিশে নিসাব পূর্ণ হোক তাতে যাকাত দেয়া ফরয হবে।
অর্থাৎ নিজের থাকার বাড়িতে এবং বাড়িতে ব্যবহিত আসবাব পত্র ছাড়া, দোকান-পাঠ বা অন্যান্য যেখানে যতো মাল-সরঞ্জাম রয়েছে সবগুলোর দাম ধরে যে টাঁকা আসে সেটাকে তার নগদ আরও যে টাঁকা আছে সেটার সাথে মিলিয়ে যদি নিসাব পরিমাণ হয় তবে যাকাত দিতে হবে। নিজের বাড়ীর বা কল-কারখানা থাকলে তার যাকাত দিতে হবে না ঠিকই কিন্তু সেখান থেকে যে পরিমাণ ভারা বা আয় হবে তার যাকাত দিতে হবে। একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যে, বাড়ি, কল-কারখানা, দোকান ইত্তাদির দামের উপর কোন যাকাত নেই কিন্তু বাড়ীর ভারা থেকে প্রাপ্ত আয়, কল-কারখানাতে প্রাপ্ত আয় এবং দোকানের সব জিনিষের দাম ধরে নিসাব পরিমাণ হলে কিংবা এই টাকাকে তার আরও যদি কিছু নগদ টাঁকা থাকে সেটার সাথে মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ হলেও যাকাত দিতে হবে। সুতরাং আপনার যদি কোন জমি থাকে তাতে যাকাত আসবে না কিন্তু আপনি যদি ব্যবসায়ীক বা কেনা-বেচা করার উদ্দেশে কিনে রাখেন তাহলে ঐ জমির দাম যা হবে সেটাকেও নগদ অর্থের সাথে মিলিয়ে নিসাব গণনা করতে হবে এবং নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে।
লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

ব্যবসায়িক মালের যাকাত কিভাবে দিবেন

আপডেট সময় : ১২:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩
ব্যবসায়ী পণ্য বলতে বুঝায়: এমন যাবতীয় বস্তু যা দ্বারা মুনাফা অর্জন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। যেমন, জমি, জীব-জন্তু, খাবার, পানীয় ও গাড়ী ইত্যাদি সব ধরনের সম্পদ।
সুতরাং বছরান্তে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে তার চার দশমাংশ বা ৪০ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে অর্থাৎ ২.৫%। চাই সেটার মূল্যমান ক্রয়মূল্যের সমপরিমান হোক, অথবা কম হোক অথবা বেশি হোক।
মুদি দোকানদার, মেশিনারি দোকানদার বা খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রেতা ও এ জাতীয় ব্যবসায়ীদের কর্তব্য হলো, ছোট বড় সকল অংশের মূল্য নির্ধারণ করে নেবে, যাতে কোনো কিছু বাদ না পড়ে। পরিমাণ নির্ণয়ে যদি জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক বেশি দাম ধরে যাকাত আদায় করবে, যাতে সে সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বমুক্ত হতে পারে।
o মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু যথা খাবার, পানীয়, বিছানা, আসবাবপত্র, থাকার ঘর, বাহন, গাড়ী, পোশাকের (ব্যবহার্য সোনা-রূপা ছাড়া) ওপর যাকাত নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‘মুসলিমের দাস-দাসী, ঘোড়ার ওপর যাকাত নেই।’ (বুখারী: ১৪৬৪; মুসলিম: ৯৮২)
o অনুরূপভাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্য যেমন জমি-জমা, গাড়ী ইত্যাদির ওপর যাকাত আসবে না। তবে সেসব থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর বছর পূর্তির পর সেটা দ্বারা স্বয়ং নিসাব পূর্ণ হোক বা এ জাতীয় অন্য সম্পদের সাথে মিশে নিসাব পূর্ণ হোক তাতে যাকাত দেয়া ফরয হবে।
অর্থাৎ নিজের থাকার বাড়িতে এবং বাড়িতে ব্যবহিত আসবাব পত্র ছাড়া, দোকান-পাঠ বা অন্যান্য যেখানে যতো মাল-সরঞ্জাম রয়েছে সবগুলোর দাম ধরে যে টাঁকা আসে সেটাকে তার নগদ আরও যে টাঁকা আছে সেটার সাথে মিলিয়ে যদি নিসাব পরিমাণ হয় তবে যাকাত দিতে হবে। নিজের বাড়ীর বা কল-কারখানা থাকলে তার যাকাত দিতে হবে না ঠিকই কিন্তু সেখান থেকে যে পরিমাণ ভারা বা আয় হবে তার যাকাত দিতে হবে। একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যে, বাড়ি, কল-কারখানা, দোকান ইত্তাদির দামের উপর কোন যাকাত নেই কিন্তু বাড়ীর ভারা থেকে প্রাপ্ত আয়, কল-কারখানাতে প্রাপ্ত আয় এবং দোকানের সব জিনিষের দাম ধরে নিসাব পরিমাণ হলে কিংবা এই টাকাকে তার আরও যদি কিছু নগদ টাঁকা থাকে সেটার সাথে মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ হলেও যাকাত দিতে হবে। সুতরাং আপনার যদি কোন জমি থাকে তাতে যাকাত আসবে না কিন্তু আপনি যদি ব্যবসায়ীক বা কেনা-বেচা করার উদ্দেশে কিনে রাখেন তাহলে ঐ জমির দাম যা হবে সেটাকেও নগদ অর্থের সাথে মিলিয়ে নিসাব গণনা করতে হবে এবং নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে।