০৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাঙ্গলকোটে গণপিটুনিতে ডাকাতের মৃত্যু

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের রাজাপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় গণপিটুনিতে অজ্ঞাতনামা এক ডাকাতের (২৭) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। তবে ডাকাত দল আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায় বলে সাত্তারের পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত তিনটার দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল রাজাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সৌদিপ্রবাসী আবদুস সাত্তারের বাড়ির দেয়াল টপকে নির্মাণাধীন ভবনের বারান্দার দেয়াল ও গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাত দল গৃহবধূ মালেকা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে মাসুদ রানাকে মারধর করে ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী রাজাপাড়া মিয়াজী বাড়ির মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত দল ঢুকেছে বলে প্রচার করেন। একপর্যায়ে রাজাপাড়া, নোয়াপাড়া, শাকতলী, পানকরা গ্রামবাসী এসে ডাকাত দলকে ধাওয়া করলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের এক সদস্য বাড়ির পাশের পার্শ্ববর্তী খালে পড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে তিনি মারা যান।

আবদুস সাত্তারের স্ত্রী মালেকা বেগম বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে রোজা রাখার জন্য সাহরি খেতে উঠি। এ সময় চারজন লোককে আমার ঘরে প্রবেশ করতে দেখি। তাদের মধ্যে তিনজন লোক মুখোশ পরা ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা আমার গলায় ছুরি ধরে আমাকে ও আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করে ঘরে যা আছে, তা দেওয়ার জন্য বলেন। এ সময় তাঁরা আমার কাছ থেকে আলমিরার চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ঘরের আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে আমরা ডাকাত ডাকাত বলে চিত্কার করলে এলাকাবাসী স্থানীয় মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত দল হানা দিয়েছে বলেন ঘোষণা দেন।’

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আবদুন নুর বলেন, অজ্ঞাতনামা ডাকাতের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সিআইডি আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করবে। গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ওই ডাকাত মারা যান।

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

নাঙ্গলকোটে গণপিটুনিতে ডাকাতের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের রাজাপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় গণপিটুনিতে অজ্ঞাতনামা এক ডাকাতের (২৭) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। তবে ডাকাত দল আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায় বলে সাত্তারের পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত তিনটার দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল রাজাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সৌদিপ্রবাসী আবদুস সাত্তারের বাড়ির দেয়াল টপকে নির্মাণাধীন ভবনের বারান্দার দেয়াল ও গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাত দল গৃহবধূ মালেকা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে মাসুদ রানাকে মারধর করে ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী রাজাপাড়া মিয়াজী বাড়ির মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত দল ঢুকেছে বলে প্রচার করেন। একপর্যায়ে রাজাপাড়া, নোয়াপাড়া, শাকতলী, পানকরা গ্রামবাসী এসে ডাকাত দলকে ধাওয়া করলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের এক সদস্য বাড়ির পাশের পার্শ্ববর্তী খালে পড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে তিনি মারা যান।

আবদুস সাত্তারের স্ত্রী মালেকা বেগম বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে রোজা রাখার জন্য সাহরি খেতে উঠি। এ সময় চারজন লোককে আমার ঘরে প্রবেশ করতে দেখি। তাদের মধ্যে তিনজন লোক মুখোশ পরা ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা আমার গলায় ছুরি ধরে আমাকে ও আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করে ঘরে যা আছে, তা দেওয়ার জন্য বলেন। এ সময় তাঁরা আমার কাছ থেকে আলমিরার চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ঘরের আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে আমরা ডাকাত ডাকাত বলে চিত্কার করলে এলাকাবাসী স্থানীয় মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত দল হানা দিয়েছে বলেন ঘোষণা দেন।’

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আবদুন নুর বলেন, অজ্ঞাতনামা ডাকাতের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সিআইডি আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করবে। গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ওই ডাকাত মারা যান।