০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাঙ্গলকোটে নির্বাচনী সহিংসতায় এক তরুণের মৃত্যু!

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১
  • ৫২ দেখেছেন

নির্বাচনী সহিংসতায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে শাকিল হোসেন (২২) নামের এক তরুণ মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হামিদের অনুসারী। আগামী ৫ জানুয়ারি এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শাকিলের বাড়ি উপজেলার আশারকোটা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। তাঁর আবদুল্লাহ নামের এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শাকিল সবার ছোট। শাকিল ঢাকায় ফুলকলি বেকারিতে কাজ করতেন। নির্বাচন উপলক্ষে বাড়ি এসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার রাত আটটার দিকে মাধবপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হামিদের নির্বাচনী পথসভা চলছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মজুমদারের অনুসারী বাবুল গাজী, সোহরাব হোসেন, শাহাব উদ্দিন, অলিউল্লাহ, হুমায়ুন কবির, কাউসার আহমেদ, মনির হোসেন, স্বপন মিয়াসহ অন্তত ৩০ জন লোক দেশি অস্ত্র ও হকিস্টিক নিয়ে পথসভায় হামলা চালান। এতে আশারকোটা গ্রামের শাকিল হোসেন, কাজি জোড় পুকুরিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ফরিদ, ফরহাদ হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শাকিলকে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে প্রথমে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই অ্যাম্বুলেন্সে রাত ৯টায় তিনি মারা যান। পরে লাশ রাতেই গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানায় নিয়ে আসে। আজ শুক্রবার সকালে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শাকিলের চাচাতো ভাই মো. রুবেল জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাকিল উপজেলার পানকরা গ্রামে তাঁর খালার জানাযা দিয়ে মাধবপুর এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামেন। এরপর নির্বাচনী পথসভায় ছিলেন। তখন সেখানে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। বাবুল গাজী ও তাঁর ভাই শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে দেশি অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়। শাকিল হামলার সময় ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো ছিলেন। তাঁর মাথায়, বুকে ও পিঠে হকিস্টিক ও দেশি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর শাকিল মাধবপুর খালে পড়ে যান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম এ হামিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী হুমায়ুনের ইন্ধনে বাবুল গাজীর নেতৃত্বে নির্বাচনী পথসভায় অতর্কিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়। এতে আমার অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন, এর মধ্যে শাকিল মারা যান। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হুমায়ুন কবির মজুমদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অসত্য অভিযোগ করছেন। যতটুকু জেনেছি, তাঁদের নিজেদের কলহে এ ঘটনা ঘটেছে।’

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে শাকিল নামের একজন মারা গেছেন। আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’

লেখকের পরিচিতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রোড মার্চ সফল করার লক্ষ্যে নাঙ্গলকোটে বিএনপির গনমিছিল ও সমাবেশ

নাঙ্গলকোটে নির্বাচনী সহিংসতায় এক তরুণের মৃত্যু!

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

নির্বাচনী সহিংসতায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে শাকিল হোসেন (২২) নামের এক তরুণ মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হামিদের অনুসারী। আগামী ৫ জানুয়ারি এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শাকিলের বাড়ি উপজেলার আশারকোটা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। তাঁর আবদুল্লাহ নামের এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শাকিল সবার ছোট। শাকিল ঢাকায় ফুলকলি বেকারিতে কাজ করতেন। নির্বাচন উপলক্ষে বাড়ি এসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার রাত আটটার দিকে মাধবপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হামিদের নির্বাচনী পথসভা চলছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মজুমদারের অনুসারী বাবুল গাজী, সোহরাব হোসেন, শাহাব উদ্দিন, অলিউল্লাহ, হুমায়ুন কবির, কাউসার আহমেদ, মনির হোসেন, স্বপন মিয়াসহ অন্তত ৩০ জন লোক দেশি অস্ত্র ও হকিস্টিক নিয়ে পথসভায় হামলা চালান। এতে আশারকোটা গ্রামের শাকিল হোসেন, কাজি জোড় পুকুরিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ফরিদ, ফরহাদ হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শাকিলকে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে প্রথমে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই অ্যাম্বুলেন্সে রাত ৯টায় তিনি মারা যান। পরে লাশ রাতেই গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানায় নিয়ে আসে। আজ শুক্রবার সকালে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শাকিলের চাচাতো ভাই মো. রুবেল জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাকিল উপজেলার পানকরা গ্রামে তাঁর খালার জানাযা দিয়ে মাধবপুর এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামেন। এরপর নির্বাচনী পথসভায় ছিলেন। তখন সেখানে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। বাবুল গাজী ও তাঁর ভাই শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে দেশি অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়। শাকিল হামলার সময় ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো ছিলেন। তাঁর মাথায়, বুকে ও পিঠে হকিস্টিক ও দেশি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর শাকিল মাধবপুর খালে পড়ে যান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম এ হামিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী হুমায়ুনের ইন্ধনে বাবুল গাজীর নেতৃত্বে নির্বাচনী পথসভায় অতর্কিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়। এতে আমার অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন, এর মধ্যে শাকিল মারা যান। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হুমায়ুন কবির মজুমদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অসত্য অভিযোগ করছেন। যতটুকু জেনেছি, তাঁদের নিজেদের কলহে এ ঘটনা ঘটেছে।’

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে শাকিল নামের একজন মারা গেছেন। আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’